ডাটাবেস হলো একটি সংগঠিত ডেটা সংগ্রহস্থল যা থেকে ডেটা সহজে সংরক্ষণ, অনুসন্ধান এবং পরিচালনা করা যায়। সাধারণত ডাটাবেসকে রিলেশনাল (Relational) এবং নন-রিলেশনাল (Non-Relational) এই দুটি ভাগে ভাগ করা হয়।
রিলেশনাল ডাটাবেস (Relational Database)
রিলেশনাল ডাটাবেস হলো এমন একটি ডেটাবেস যা টেবিলের (Tables) মাধ্যমে ডেটা সংরক্ষণ করে এবং সারির (Rows) ও কলামের (Columns) মধ্যে সম্পর্ক গঠন করে।
বৈশিষ্ট্যসমূহ
- টেবিলভিত্তিক স্ট্রাকচার:
ডেটা টেবিল আকারে সংরক্ষিত হয়, যেখানে প্রত্যেকটি টেবিল একটি নির্দিষ্ট বিষয়ে ডেটা ধারণ করে। - SQL (Structured Query Language):
ডেটা পরিচালনা ও অনুসন্ধানের জন্য SQL ব্যবহার করা হয়। - ACID প্রপার্টি:
- Atomicity: একটি ট্রানজেকশন সম্পূর্ণ বা বাতিল হবে।
- Consistency: ডেটা সবসময় সঠিক এবং সুনির্দিষ্ট থাকবে।
- Isolation: একাধিক ট্রানজেকশন একে অপরের উপর প্রভাব ফেলবে না।
- Durability: সফল ট্রানজেকশন স্থায়ীভাবে সংরক্ষিত হবে।
- ডেটার মধ্যে সম্পর্ক:
টেবিলগুলোর মধ্যে প্রাইমারি কী (Primary Key) এবং ফরেন কী (Foreign Key) ব্যবহার করে সম্পর্ক গঠন করা হয়।
জনপ্রিয় রিলেশনাল ডাটাবেস
১. MySQL
- MySQL একটি ওপেন-সোর্স রিলেশনাল ডাটাবেস ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম। এটি ছোট-বড় সব ধরনের অ্যাপ্লিকেশনের জন্য জনপ্রিয়।
- ব্যবহার: ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন, ব্লগিং প্ল্যাটফর্ম (WordPress)।
উদাহরণ:
CREATE TABLE users (
id INT AUTO_INCREMENT PRIMARY KEY,
name VARCHAR(50),
email VARCHAR(100),
age INT
);
২. PostgreSQL
- PostgreSQL একটি শক্তিশালী ওপেন-সোর্স রিলেশনাল ডাটাবেস। এটি অ্যাডভান্সড ফিচার যেমন জিওগ্রাফিকাল ডেটা, কাস্টম ডেটা টাইপ সমর্থন করে।
- ব্যবহার: বড় অ্যাপ্লিকেশন এবং ডেটা ইন্টিগ্রিটির জন্য আদর্শ।
উদাহরণ:
CREATE TABLE employees (
id SERIAL PRIMARY KEY,
name TEXT,
department TEXT,
salary NUMERIC
);
নন-রিলেশনাল ডাটাবেস (Non-Relational Database)
নন-রিলেশনাল ডাটাবেস ডেটা সংরক্ষণে টেবিলভিত্তিক স্ট্রাকচার ব্যবহার করে না। এটি মূলত ডকুমেন্ট, কী-ভ্যালু পেয়ার, গ্রাফ বা কলেকশন আকারে ডেটা সংরক্ষণ করে।
বৈশিষ্ট্যসমূহ
- Flexibility:
নন-রিলেশনাল ডাটাবেসে ডেটার স্কিমা (Schema) ফিক্সড নয়। ফলে দ্রুত পরিবর্তন করা যায়। - JSON ভিত্তিক স্টোরেজ:
ডেটা সাধারণত JSON বা BSON ফরম্যাটে সংরক্ষণ করা হয়। - Horizontal Scaling:
বড় ডেটার জন্য নন-রিলেশনাল ডাটাবেস সহজে হরিজন্টাল স্কেল করতে পারে। - High Performance:
এটি দ্রুত রিড এবং রাইট অপারেশন পরিচালনা করতে পারে।
জনপ্রিয় নন-রিলেশনাল ডাটাবেস
MongoDB
- MongoDB একটি ডকুমেন্ট-ভিত্তিক নন-রিলেশনাল ডাটাবেস। এটি JSON এর মতো ডেটা ফরম্যাট BSON ব্যবহার করে ডেটা সংরক্ষণ করে।
- ব্যবহার: ফ্লেক্সিবল এবং দ্রুত ডেটা ম্যানেজমেন্টের জন্য, যেমন রিয়েল-টাইম অ্যাপ্লিকেশন।
MongoDB উদাহরণ:
{
"_id": "1",
"name": "John Doe",
"email": "john@example.com",
"age": 28
}
MongoDB তে একটি ডেটাবেসে ডেটা কলেকশন (Collections) আকারে থাকে এবং প্রত্যেক কলেকশন ডেটাকে ডকুমেন্ট আকারে সংরক্ষণ করে।
ডকুমেন্ট তৈরি (Insert):
db.users.insertOne({
"name": "Jane Doe",
"email": "jane@example.com",
"age": 25
});
রিলেশনাল এবং নন-রিলেশনাল ডাটাবেসের পার্থক্য
| বৈশিষ্ট্য | রিলেশনাল ডাটাবেস | নন-রিলেশনাল ডাটাবেস |
|---|---|---|
| স্ট্রাকচার | টেবিল ভিত্তিক | ডকুমেন্ট, কী-ভ্যালু, গ্রাফ |
| স্কিমা | ফিক্সড স্কিমা | ডায়নামিক স্কিমা |
| ল্যাঙ্গুয়েজ | SQL (Structured Query Language) | NoSQL (Non-SQL) |
| ডেটার সম্পর্ক | টেবিলগুলোর মধ্যে সম্পর্ক থাকে | সম্পর্ক কম বা নেই |
| পারফরম্যান্স | কমপ্লেক্স কোয়েরি সহজে চলে | দ্রুত রিড এবং রাইট অপারেশন |
| স্কেলিং | Vertical Scaling | Horizontal Scaling |
সারসংক্ষেপ
- MySQL এবং PostgreSQL এর মতো রিলেশনাল ডাটাবেস ব্যবহার করা হয় সুনির্দিষ্ট এবং সম্পর্কযুক্ত ডেটার জন্য যেখানে টেবিলভিত্তিক স্ট্রাকচার প্রয়োজন।
- MongoDB এর মতো নন-রিলেশনাল ডাটাবেস ব্যবহার করা হয় যেখানে ফ্লেক্সিবল এবং দ্রুত ডেটা সংরক্ষণের প্রয়োজন হয়।
আপনার প্রকল্পের চাহিদার উপর ভিত্তি করে রিলেশনাল বা নন-রিলেশনাল ডাটাবেস নির্বাচন করতে হবে। ছোট স্কেল থেকে বড় স্কেল অ্যাপ্লিকেশন পর্যন্ত উভয় ধরনের ডেটাবেসের নিজস্ব কার্যকারিতা এবং সুবিধা রয়েছে।
Read more